যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি সেপ্টেম্বরে গত ১৮ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এশিয়ার বাজারে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বৃদ্ধি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম রফতানি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। লুক্সেমবার্গভিত্তিক আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, গত মাসে দেশটির দৈনিক গড় রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ব্যারেলে। এটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। খবর রয়টার্স।
কেপলার জানিয়েছে, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল রফতানি প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। সে সময় দেশটিতে সরবরাহ কমে গিয়েছিল এবং এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামের জ্বালানি তেলের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে আগস্টে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ও মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্যের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে রফতানি আবার লাভজনক হয়ে ওঠে। আগস্টে এ ব্যবধান গড়ে ছিল ঋণাত্মক ৩ দশমিক ৭৯ ডলার, যা চার মাসের মধ্যে সর্বাধিক।
সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল রফতানি বেড়ে পৌঁছেছে দৈনিক ৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। দেশটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য কিনতে ১০ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। একই মাসে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটি দুটি চালান নিয়েছে, যার মোট পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ব্যারেল বা দৈনিক ৬২ হাজার ব্যারেল।
প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে ভারতও যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৭৯ হাজার ব্যারেল, যা গত মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে ইউরোপে রফতানি ১১ শতাংশ কমে সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১৭ লাখ ব্যারেলে।
চীনের বাজারে সাত মাস পর অক্টোবরে আবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল রফতানি শুরু হবে। কেপলার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৩ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশটি বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কেপলারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন কমার ইঙ্গিত জ্বালানি তেল বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে। তবে উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও ডব্লিউটিআই দরবৃদ্ধির কারণে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় জ্বালানি তেল রফতানি কিছুটা সীমিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।